ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আমেজ বদলে দিয়েছে শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই প্রকাশ্য দিবালোকে এই আলোচিত সংসদ সদস্যপ্রার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে এবারের জাতীয় ভোটের মৌসুম। মাত্র ৩২ বছর বয়সী হাদি ছিলেন ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া সেই আন্দোলনের অন্যতম কণ্ঠস্বর, যার মাধ্যমে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। জনরোষের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দফায় দফায় পাতানো নির্বাচন করে টানা ক্ষমতায় থাকার অভিযোগ ছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতা নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার করে একটি সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের আশ্বাস দিয়ে আসছিল। বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতবিরোধিতা ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে কট্টর অবস্থানের কারণে বারবার হত্যার হুমকি পাওয়া হাদি।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষিতে পরদিনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, “ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ; এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি হতে না দেওয়া। এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।” ওসমান হাদির ওপর আক্রমণটিকে ‘খুবই সিম্বলিক’ আখ্যায়িত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়।”
পরবর্তী সময়ে ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান ওসমান হাদি। পরদিন তাঁর লাশ দেশে আনা হয়। জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে ২০ ডিসেম্বর বিকেলে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করা হয়। তার আগে জানাজায় অংশ নিতে এসে দেশের সরকারপ্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “প্রিয় হাদি, তুমি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলে এবং সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে কীভাবে নির্বাচন করতে হয়, তারও একটা প্রক্রিয়া আমাদের জানিয়ে গেছ। কীভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়, কীভাবে মানুষকে কষ্ট না দিয়ে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে হয়, কীভাবে মানুষের সঙ্গে বিনীতভাবে আচরণ করতে হয়—সবকিছুই তুমি শিক্ষা দিয়ে গেছ।” এই শিক্ষাকে রাজনৈতিক জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করেছি। আমরা এই শিক্ষা চালু করতে চাই। আমাদের রাজনৈতিক জীবনে এটাকে নিয়ে আসতে চাই, যাতে হাদি আমাদের জীবনে স্পষ্টভাবে জাগ্রত থাকে।”
একই দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “একটি মহল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। নির্বাচনপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার হীন উদ্দেশ্যে পতিত স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে দেশি-বিদেশি দোসররা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা হাদির এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তবে যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা যেন এই ঘটনাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভোটের মাঠে থাকা বিভিন্ন পক্ষ পরস্পরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তবে হাদির পরিবারসহ তাঁর সহযোদ্ধারা শুরু থেকেই এটিকে ভারত ও আওয়ামী লীগের আক্রমণ হিসেবে সন্দেহ করছে। জনরোষে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগ এবার ভোটে অংশ নিতে পারবে না। সে কারণে তারা এই নির্বাচন বানচাল করার জন্য চেষ্টার কোনো কমতি রাখবে না—এটা সহজেই অনুমেয়। আর ভারতের সরকার এই মুহূর্তে তাদের একমাত্র বান্ধব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী।
হাদির মৃত্যুর খবর চাউর হওয়ার পর ‘দিল্লির দালাল’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম ব্যবসায় অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকি ও প্রথমা প্রকাশনীর বিভিন্ন স্থাপনায়। এসব হামলায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। একই রাতে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জনের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। এর আগে ভারতের ঢাকাস্থ দূতাবাস এবং রাজশাহী হাইকমিশন ঘিরেও বিক্ষোভ করেন হাদির সমর্থকেরা।
এরই মধ্যে হাদির ওপর হামলাকারীরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। এর প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে এনসিপি নেতা হাসানাত আবদুল্লাহ ভারতকে হুমকি দিতে গিয়ে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কথাও বলেন। হাদির মৃত্যুর পর ভারতের বিরোধিতাকারী আরেক তরুণ নেতা মাহফুজ আলমের ভাষ্য ছিল, হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে ভারত থেকে বের করে দিতে হবে। যতক্ষণ না এই দাবি মানা হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। “আমাদের যেমন ঘুম হারাম হয়েছে, তেমনি তাদেরও ঘুম হারাম করে দেব”—এভাবেও হুমকি দেন বর্তমান সরকারের এই সাবেক উপদেষ্টা।
এর আগের দিন, অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারতের নিরাপত্তা বা ভূখণ্ড হুমকিতে পড়লে দেশটি নীরব থাকবে না। এর মধ্যেই ভারত ঢাকায় কয়েকটি ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। সর্বশেষ হাদির দাফনের রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। দৈনিক আমার দেশ-এর অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’ ব্যানারে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে।
এ সময় বাংলাদেশবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। যদিও এক দিন আগেই ভারতের কংগ্রেস দলের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান শশী থারুর বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকা–দিল্লি উত্তেজনা নিরসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী ভারত।
নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের এমন অবনতি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কী ধরনের সংকটে ফেলতে পারে, তা সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই অনুমান করা যায়। ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাঁচা তুলা ও সুতা, যা তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। পাশাপাশি খনিজ জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য, বাস–ট্রাকসহ যানবাহন ও যন্ত্রাংশ, শিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং পোলট্রি ও পশুখাদ্য–সংক্রান্ত উপকরণও উল্লেখযোগ্য।
সংবাদমাধ্যম ও সরকারি তথ্যে দেখা যায়, নীতিগত কড়াকড়ি ও সীমান্ত–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়লেও কাঁচামালনির্ভর এসব পণ্যের আমদানি এখনো বাংলাদেশের শিল্পখাত সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্ট ইন্ডিয়া ব্র্যান্ড ইক্যুইটি ফাউন্ডেশন (আইবিইএফ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে মোট ১১.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ১১.০৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.০৫ বিলিয়ন ডলারে, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ১.৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথা উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, তারাও এখানে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করে। বর্তমানে রাজধানীর কিছু এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও কূটনৈতিক মিশন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে।
এরই মধ্যে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ছায়ানট ও উদীচীর মতো প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা। তফসিল ঘোষণার দিন, অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর, ঢাকায় এক ব্যবসায়ীকে এবং ১৭ ডিসেম্বর পাবনায় এক বিএনপি নেতাকে গুলিতে হত্যা করা হয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ১৮ ডিসেম্বর পিটিয়ে হত্যা করে পোড়ানো হয় দীপু চন্দ্র দাস নামের এক পোশাকশ্রমিকের মরদেহ। লক্ষ্মীপুরে বেলাল চৌধুরী নামের এক বিএনপি নেতার বসতঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে ১৯ ডিসেম্বর রাতে পেট্রোল ঢেলে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে তাঁর ঘুমন্ত শিশুকন্যা আয়েশা আক্তার সানজু (৮) পুড়ে মারা যায়। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে নির্বাচনী আবহে উৎসব নয়, আশঙ্কাই প্রকট। ভারতের প্রভাব এবং লাশের রাজনীতি ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানে গরম হয়ে উঠেছে ভোটের বাজার।
তবে প্রবাসে থাকা লেখক, প্রকাশক ও সাংবাদিক মাহবুব লীলেন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “বাংলাদেশের পলিটিক্সে লাশ বরাবরই দামি জিনিস; এবং সেই লাশটা হইতে হয় যার হিরো হইবার চান্স আছিল, কিন্তু এখনো হিরো হইতে পারে নাই—এমন একজনের লাশ। পলিটিক্সে লাশেরা হিরো হয় মরণের পরে।” তিনি বলেন, “এইখানে বলির পাঠা হইছে ওসমান হাদি। ওসমান হাদির পলিটিক্যাল প্রোফাইলে এমন কিছু নাই, যাতে খুঁজে গিয়ে কেউ তারে গুলি করার কারণ পায়। তারে মারায় আওয়ামী লীগের লাভ-ক্ষতির কোনো হিসাবই নাই। নির্ঘাত ক্ষতিটা হইছে বিএনপির; খালেদা জিয়ার লাইগা কান্নাকাটি কইরা দখল করা ইলেকশনের মাঠ ফসকায়া গেছে; কোমর বেঁধে তারেক জিয়ার আগমনে লাফানোর সুযোগও মাঠে মারা গেছে।”
লীলেন আরও লিখেছেন, “লাভ হইছে এনসিপির। ‘হাদি হাদি’ কইরা ঢাকার রাস্তার দখল খালেদা–তারেকের হাত থাইকা রিকভার করা গেছে। কিন্তু প্রথম আলো–ডেইলি স্টার পোড়ানোয় আবার সকল লাভের গুড় খাইয়া গেছে পিঁপড়ায়। পত্রিকা অফিস পোড়ানোয় নির্ঘাত ক্ষতিটা হইছে এনসিপির; এই পত্রিকাগুলাই তাদের আন্দোলনে কাভার দিছে, হিরো বানাইছে; তারা পত্রিকা পোড়ানোর কথা না, কিন্তু এখন ইলেকশনকালে তাদের ঘাড়ে গিয়ে পড়ছে পত্রিকা পোড়ানোর দায়।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে নির্বাসিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন তাঁর মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।













