বাজার দর্পন

সিটি ব্যাংকে পর্দার আড়ালে কী ঘটছে?

ডিএসজে কোলাজ
ডিএসজে কোলাজ

সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেনের অনিয়ম প্রকাশের ঘটনায় ব্যাংকপাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্ট্রিট জার্নাল এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সামনে আনে এই চাঞ্চল্য তৈরিকারী তথ্য। ইতিমধ্যেই ব্যাংকটি পদস্থ কর্মকর্তাদের রক্ষায় সক্রিয় হয়েছে।

ব্যাংকটির দাবি, সকল অনিয়মের মূলে ছিলেন বরখাস্তকৃত পোর্টফোলিও ম্যানেজার সানোয়ার খান, আর ডিএমডিসহ অন্য কর্মকর্তারা ছিলেন পরিস্থিতির শিকার। তবে ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের হাতে থাকা নথিপত্র এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বক্তব্য বলছে ভিন্ন কথা।

আলোচিত প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সিটি ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, তাদের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে এটি সরিয়ে ফেলার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। যার প্রেক্ষিতে ডিএসজে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করে এবং তা হুবহু প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদলিপিটি না পাঠিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে তা ব্যাখ্যা হিসেবে শেয়ার করে।

জানতে চাওয়া হলে ব্যাংকের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা মির্জা গোলাম ইয়াহইয়া বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এই ব্যাখ্যাটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপে দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে কেউ কেউ ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

ব্যাংকটির প্রচারিত ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদনে ডিএমডি-দের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তাদের মতে, অনিয়মের মূল হোতা ছিলেন সাবেক পোর্টফোলিও ম্যানেজার সানোয়ার খান। তিনি নিজের একক কর্তৃত্বে ব্যাংকের ডিলার কোড ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থে লেনদেন করেছেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা (যাদের মধ্যে ডিএমডিরা রয়েছেন) সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসেবে সানোয়ারের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। ব্যাংক দাবি করছে, সানোয়ার যে তাঁদের অগোচরে ব্যাংকের পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার কেনাবেচা করেছেন, তা তাঁদের পক্ষে জানা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব ছিল।

সাধারণ বিনিয়োগকারী বা ব্রোকারেজ হাউজ ‘ব্লক’ বা ‘ট্রেডিং কোডের’ উৎসের তথ্য দেখতে পায় না। ফলে কর্মকর্তাদের পক্ষে এটা বোঝা সম্ভব ছিল না যে তাঁদের কেনা শেয়ারগুলো আসলে সিটি ব্যাংকের বাস্কেট থেকে আসছে। এমনটা দাবি করে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসইসি সানোয়ার ও তাঁর পরিবারকে বড় অঙ্কের জরিমানা করলেও কর্মকর্তাদের কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।

যে কারণে প্রশ্নাতীত নয় ব্যাংকের দাবি

সিটি ব্যাংকের ব্যাখ্যার বিপরীতে ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের অনুসন্ধান এবং বিএসইসি-র বক্তব্য আরো কিছু সত্য সামনে এনেছে। বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবুল কালাম সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ডিএসজে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, কোনো বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবধারীর অগোচরে যদি তার ট্রেডার লেনদেন করেও থাকে, তারপরও লেনদেনের তথ্য সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবধারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস ও ইমেইলে মেইল চলে যাবে। এটি ‘বাই ডিফল্ট’ সিস্টেম; এমনকি ব্লক কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে শেয়ার লেনদেন হলেও।

বিএসইসি মুখপাত্র আরও বলেন, “বিএসইসি থেকে সিডিবিএলকে (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড) নির্দেশনা দেওয়া আছে, যদি কোনো বিও হিসাবে মোবাইল নম্বর না দেওয়া থাকে, সেগুলো খুঁজে বের করতে এবং সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবধারীর মোবাইল নম্বর থাকা নিশ্চিত করতে।”

সুতরাং, ডিএমডি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দিনের পর দিন তাঁদের অ্যাকাউন্টে লেনদেনের বিষয়ে জানতেন না—এমন দাবি ধোপে টেকে না। লেনদেনের ডিজিটাল প্রমাণ এবং অটোমেটেড এসএমএস অ্যালার্টের এই যুগে ‘অগোচরে লেনদেন’ হওয়ার দাবিটি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিএসইসি শুধুমাত্র অগ্নি সিস্টেমসের অনিয়মের ঘটনায় সানোয়ার খান, তাঁর পরিবার ও সিটি ব্যাংককে জরিমানা করেছে। ব্যাংকের পোর্টফোলিও বাস্কেট থেকে আরও বেশ কিছু সিকিউরিটিজে ডিএমডিদের বেআইনি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত শেষে এখন বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিএসইসির মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।

ডিএসজে প্রতিবেদকের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দাপ্তরিক নথিপত্রে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, চার কর্মকর্তা বা ডিএমডিদের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না যে তাঁদের শেয়ার সিটি ব্যাংকের নিজস্ব বাস্কেট থেকে আসছে। কিন্তু ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের কাছে থাকা তথ্য ও নথিপত্র বলছে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন একই প্রতিষ্ঠানের পোর্টফোলিও ম্যানেজারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পরিচালনা করেন, তখন সেখানে ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

“ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন বা ‘গভর্ন্যান্স’ এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কি না, সেটিই ছিল আমাদের প্রতিবেদনের মূল বিষয়।”

সিটি ব্যাংক তাদের গোপন ব্যাখ্যাতেও স্বীকার করেছে যে, বিএসইসি অনৈতিক লেনদেনের দায়ে ব্যাংককে জরিমানা করেছে। একটি তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘ডিলার কোড’ বা ‘ফোলিও বাস্কেট’ থেকে যখন বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার শেয়ার সরানো হয়েছে, তখন তা কেবল একজন মিড-লেভেল ম্যানেজারের (সানোয়ার খান) একার কাজ বলে চালিয়ে দেওয়া কঠিন। উচ্চপর্যায়ের তদারকি বা ‘সুপারভিশন’-এ বড় ধরনের ঘাটতি ছিল বলেই বিএসইসি ব্যাংকটিকে জরিমানা করেছে। সিটি ব্যাংক পরবর্তীতে তাদের তদারকি কঠোর করেছে বলে যে দাবি করেছে, তা প্রমাণ করে যে আমাদের প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিচ্যুতিগুলো ভিত্তিহীন ছিল না।

জনস্বার্থে এবং দেশের ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ডিএসজে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। পেশাদারত্বের খাতিরে আমাদের সম্পাদকীয় পর্ষদ সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গোপন ব্যাখ্যাও গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করেছে। ঢাকা স্ট্রিট জার্নাল তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী এবং পাঠকদের সামনে এই ঘটনার প্রতিটি দিক উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় ডিএসজে প্রতিবেদকের হাতে আসা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যাখ্যাটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।

ঢাকা স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে সিটি ব্যাংকের বক্তব্য

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্ট্রিট জার্নাল নামের এক অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংক সম্পর্কে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। সেখানে ব্যাংকের সাবেক শেয়ার পোর্টফোলিও ম্যানেজার সানোয়ার খান ও তাঁর পরিবারের অনিয়মের পাশাপাশি তিনজন ডিএমডির বিরুদ্ধে ‘ব্লক’-এ লেনদেন করে ৪ থেকে ৯ লাখ টাকা মুনাফা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ডিএমডিদের এই ব্যাংকে যে মাসিক বেতন, তার সাপেক্ষে এমন সামান্য অঙ্কের লাভের জন্য তাদের এই অবৈধ লেনদেনে জড়ানোর কথা এমনিতেই বাস্তবসম্মত না।

প্রকৃত ঘটনা নীচে তুলে ধরা হলো।

ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন সানোয়ার খান। তিনি ১০ জুন ২০২৪ তারিখ থেকে ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পোর্টফোলিও দেখবার দায়িত্ব পান। অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকের ডিলার কোডের (বা ব্যাংকের পোর্টফোলিও বাস্কেটের) নিয়ন্ত্রণ ও লেনদেন পরিচালনার ক্ষমতা তাঁর ওপরেই ন্যস্ত ছিল।

২০২৫ সালের আগস্টে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আমাদেরকে জানান যে, দুটো স্টকে—নাম ‘ফাইন ফুডস’ ও ‘অগ্নি সিস্টেম’—শেয়ার লেনদেনে এই ব্যাংকে অনিয়ম ঘটেছে। পরে এসইসি’র ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন শুনানিতে জনাব সানোয়ার স্বীকার করেন, সংশ্লিষ্ট সব লেনদেন তাঁর একক কর্তৃত্বে হয়েছে এবং এতে অন্য কেউ জড়িত নন। ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগের তদন্ত কমিটির কাছেও তিনি একই বক্তব্য দেন।

পরে এসইসি জনাব সানোয়ারের অনিয়মের সঙ্গে আপাত চোখে সংশ্লিষ্ট এই ব্যাংকের চার কর্মকর্তার ব্লক-এ লেনদেন করার বিষয়ে আমাদের কাছে চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চাইলে ব্যাংকের বোর্ডের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্তে দেখা যায়, জনাব সানোয়ার তাঁর স্ত্রী, ভাই ও তাঁর নিজের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকের ডিলার কোডের বা ব্যাংকের পোর্টফোলিও বাস্কেটের শেয়ারে হাত দিয়েছেন, অর্থাৎ তাঁর নিজস্ব শেয়ার লেনদেনের কেনা ও বেচার অন্যপক্ষ হিসেবে তিনি তাঁরই সিটি ব্যাংককে বেছে নিয়েছেন। এমনকী দেখা গেলো, কিছু ক্ষেত্রে তিনি ব্যাংকের ধরে রাখা স্টকের মূল্য বাড়িয়েছেন তাঁর ও তাঁর পরিবারের কাছে একবার সেসব শেয়ার বেচে, আবার মূল্য বাড়তির ওই সময়ে সেই একই শেয়ার ব্যাংকের কাছেই পুনঃবিক্রি করে। তদন্ত কমিটি প্রমাণ পায়, এই অনৈতিক কাজগুলি করার মাধ্যমে তিনি তাঁর স্ত্রী, তাঁর ভাই ও তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে অনেক টাকার মুনাফা পাইয়ে দিয়েছেন। তদন্তে বিষয়গুলি প্রমাণিত হলে প্রথমে ব্যাংক তাঁকে ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়, পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

এরপরে এসইসি ‘অগ্নি সিস্টেম‘ স্টকে অনৈতিক লেনদেন থেকে ব্যাংকের মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূলধনী ক্ষতি হওয়ার প্রেক্ষিতে সিটি ব্যাংককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। (আমরা এ নিয়ে সম্প্রতি এসইসি-র কাছে আপিল আবেদন করেছি।) আবার একই সময়ে এসইসি জনাব সানোয়ারের ওই অনৈতিক লেনদেনগুলির মাধ্যমে ‘অগ্নি সিস্টেম‘ স্টক থেকে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যক্তিগত লাভ করার প্রেক্ষিতে তাঁকে মোট ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অন্যদিকে ‘ফাইন ফুডস‘ স্টকে লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক দেখা যায় লাভ করেছে মোট ৪৬ লাখ টাকা। এসইসি এখানে ব্যাংককে জরিমানা করেন ৪২ লাখ টাকা। (আমরা এটা নিয়েও সম্প্রতি এসইসি-র কাছে আপিল আবেদন করেছি।) আর এই ‘ফাইন ফুডস‘ স্টকে দেখা যায় জনাব সানোয়ার ব্যক্তিগত লাভ করেছেন মোট ২৭ লক্ষ টাকা, এবং এসইসি এখানে তাকে জরিমানা করেন মোট ২৫ লক্ষ টাকা। এসব লেনদেনে জড়িত থাকার কারণে এসইসি একইভাবে জনাব সানোয়ারের স্ত্রীকে জরিমানা করেন ৯ লক্ষ টাকা, তাঁর ভাইকে করেন ১ লক্ষ টাকা এবং তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানকে করেন ১৭ লক্ষ টাকা।

এবার ব্যাংকের অন্য চার কর্মকর্তার প্রসঙ্গে আসা যাক। তাঁদের ব্যাপারে আপাত চোখে আনা কোনো অভিযোগ তদন্তে এসে প্রমাণিত হয়নি। বাস্তবে যা ঘটেছিল তা এরকম। এই কর্মকর্তাগণ তাদের বৈধ আয় থেকে শেয়ার বাজারে সীমিত ব্যক্তিগত বিনিয়োগ করেছিলেন। তাঁদের এই বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল জনাব সানোয়ারের কাঁধে। তাঁরা সাধারণ বিশ্বাসের জায়গা থেকে ব্যাংকের শেয়ার পোর্টফোলিও ম্যানেজারের হাতে তাদের বিনিয়োগের টাকা তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে, নিজের অনিয়মের জালকে বিস্তৃত করে অন্যকেও তাতে জড়িয়ে রাখবার মন্দ অভিপ্রায় থেকে জনাব সানোয়ার তাদের বিনিয়োগের কিছু শেয়ার ব্যাংকের ডিলার কোডের (বা ব্যাংকের পোর্টফোলিও বাস্কেটের) শেয়ার থেকে কিনেছেন। কোনো বিনিয়োগকারীই কখনো জানতে পারেন না যে, তাঁর পোর্টফোলিও ম্যানেজার তাকে যে শেয়ার কিনে দিচ্ছেন, সেটা কোন পোর্টফোলিও থেকে আসা শেয়ার। অর্থাৎ এই কর্মকর্তাগণের পক্ষে কখনোই কোনোভাবেই জানা সম্ভব ছিল না যে, তাঁদের নামে কেনা ‘ফাইন ফুডস’ বা ‘অগ্নি সিস্টেম‘ বা অন্য যে কোনো শেয়ার আসলে সিটি ব্যাংকের পোর্টফোলিও বাস্কেট থেকে আসছে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারী কেউ কেবল দেখতে পান ব্রোকারেজ হাউজের আনুষ্ঠানিক নথি, যেমন ক্লায়েন্ট ওয়াইজ পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট ও ট্রেড কনফার্মেশন নোট। তাতে কখনোই ব্লক বা নির্দিষ্ট ট্রেডিং কোডের উৎসের তথ্য থাকে না। ওই তথ্য আমাদের জানামতে এসইসি-র সার্ভেইল্যান্স টিম বাদে আর কেউ জানে না, এমনকী কোনো ব্রোকারেজ ফার্মও না। মূল কথা, আমাদের উল্লিখিত কর্মকর্তাগণ জানতেন না তাঁদের নামের শেয়ার এ ব্যাংকেরই ডিলার কোড বা পোর্টফোলিও বাস্কেট থেকে এসেছে। তা জানার কোনো সুযোগও নেই। এবং তা নেই বলেই এসইসি জনাব সানোয়ারকে পরিবারসহ জরিমানা করেছেন, কিন্তু এই কর্মকর্তাদের কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেননি।

এ ঘটনার পরে শেয়ারবাজারে লেনদেন সংক্রান্ত সকল অনিয়ম ঠেকাতে আমরা ইতোমধ্যে আমাদের নিয়ম ও তদারকি আরও জোরদার করেছি। যেমন এখন সিটি ব্যাংকের কর্মীরা শেয়ারবাজারে তাদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য দেশের অন্য সবার দ্বারস্থ হতে পারলেও একই ব্যাংকের শেয়ার পোর্টফোলিও যিনি দেখেন, তাঁর কাছে যেতে পারবেন না।

আমাদের এই ব্যাখ্যা সকলের সকল প্রশ্ন ও সন্দেহকে দূর করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক সিটি ব্যাংকের পাশে থাকবার জন্য আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top