ঋণ ও বিনিয়োগের প্রকৃত শ্রেণিমান যথাযথভাবে রিপোর্ট না করায় দুই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক—ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-কে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) মনিটরিং অ্যান্ড সুপারভিশন সেকশন থেকে গত ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা পৃথক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ওয়ান ব্যাংক গ্রাহক প্রতিষ্ঠান টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের একটি ডিমান্ড লোন প্রায় ১৪ মাস পর সিআইবি ডেটাবেসে রিপোর্ট করে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির দুটি মেয়াদি ঋণ, দুটি পুনঃতফসিলকৃত ঋণ, নয়টি ডিমান্ড লোন এবং একটি ওভারড্রাফট ঋণ প্রকৃত শ্রেণিমান অনুযায়ী দেখায়নি। প্রায় চার মাস ধরে এসব ঋণ অশ্রেণিকৃত হিসেবে রিপোর্ট করা হয়। বিষয়টি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২’-এর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যাংকটির ওপর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৫ মার্চের মধ্যে মতিঝিল কার্যালয়ে চেক বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত ওয়ান ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে তা সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সিআইবিকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি।
অন্যদিকে একই ধরনের অনিয়মে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককেও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “গ্রাহক প্রতিষ্ঠান কে.এন.বি. অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তিনটি ‘হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক’, ১৮টি ‘বাই মুরাবাহা টিআর’ এবং ২৪টি ‘মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট’ বিনিয়োগ ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে রিপোর্ট না করে অশ্রেণিকৃত দেখানো হয়েছে।”
এছাড়া তিনটি নন-ফান্ডেড লেটার অব ক্রেডিট যথাক্রমে পাঁচ বছর ছয় মাস, দুই বছর নয় মাস এবং পাঁচ বছর এক মাস পর সমাপ্ত (টার্মিনেট) করা হয়। ৪৪টি বিনিয়োগ পুনঃতফসিল করার পর মেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে রিপোর্ট না করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মকে গুরুতর বিবেচনায় নিয়ে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২’-এর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যাংকটির ওপর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে সাত দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ মতিঝিল কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত ব্যাংকটির চলতি হিসাব থেকে তা সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে সিআইবিকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফাত উল্লাহ খান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ভুলবশত এ ধরনের সমস্যা হতেই পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”













