রেমিট্যান্সের জোয়ারে চাঙা অর্থনীতি

ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ
ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের (রেমিট্যান্স) অভাবনীয় প্রবৃদ্ধিতে শক্তিশালী হচ্ছে অর্থনীতির ভিত। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই (২১ দিনে) দেশে এসেছে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০.৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের মধ্যেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিট্যান্সের সরবরাহ বাড়ায় আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২ কোটি ৩০ লাখ (১২৩ মিলিয়ন) ডলার কেনা হয়েছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই অর্থ কেনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসেছিল ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা এ বছর ২০.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেবল ফেব্রুয়ারি মাসেই নয়, পুরো অর্থবছরেই (২০২৫-২৬) রেমিট্যান্সের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। গত জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৬ শতাংশ বেশি। এর আগে সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসেও ৩১৭ কোটি ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকার উপরে স্থিতিশীল হওয়া এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া সামনে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের এই ধারা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যাদি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসের এ পর্যন্ত মোট ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (১৪৪৮ মিলিয়ন) ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে সব মিলিয়ে ৫৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এভাবে ডলার কেনার ফলে একদিকে যেমন বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভের অবস্থাও আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় আমরা নিয়মিত কাট-অফ রেটে ডলার কিনছি। এটি আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top