রপ্তানি ঋণের মেয়াদ বাড়ল ২০৩০ পর্যন্ত

ডিএসজে

দেশের রপ্তানি খাতের সংকট মোকাবিলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে বড় ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানিকারকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ‘রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল’ (ইএফপিএফ)-এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই নির্দেশনার ফলে রপ্তানিকারকরা এখন থেকে ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ ঋণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আগে এই বিশেষ ঋণ সুবিধার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণের লভ্যতা নিশ্চিত করতে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তও জুড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরাসরি প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ব্যাংকগুলো এই ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ নীতি অনুসরণ করবে। তবে কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ এই তহবিলের আওতায় কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণের স্থিতি রাখতে পারবে না।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী খাত বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতেই তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি আবর্তনযোগ্য বা রিভলভিং তহবিল, অর্থাৎ ঋণের টাকা আদায়ের পর তা পুনরায় অন্য রপ্তানিকারকদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে।

সুবিধাটি পেতে আগ্রহী তফসিলি ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে নতুন করে একটি ‘অংশগ্রহণ চুক্তি’ সই করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরর্থায়নের আবেদন করতে হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর ঋণ বিতরণ ও আদায়ের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার এই সময়ে রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট মেটাতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top