ভোজ্যতেলে কারসাজির দায়ে এস আলমকে ৪২ কোটি টাকা জরিমানা

ডিএসজে
ডিএসজে

২০২২ সালে ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বাজারে তেলের সরবরাহও কম রাখা হয়। অভিযোগ আছে, এ কাজে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড ডিলার ও প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে। এসব উপায়ে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এসব অভিযোগের কারণে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি) প্রতিষ্ঠানটিকে ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

বিষয়টি রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিসিসি।

এতে বলা হয়, ২০২২ সালের ৫ মে ব্যবসায়ীদের দাবিতে সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়। লিটারপ্রতি দাম ৩৮ টাকা বাড়ানো হয়। কিন্তু দাম বাড়ানোর পরও বাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক হয়নি। এতে সাধারণ মানুষ আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ভোজ্যতেলের আমদানি, উৎপাদন এবং দাম নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

বিসিসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ জারি করে কমিশন। আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ‘প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২’ লঙ্ঘন করেছে। উৎপাদন কমিয়ে রাখা এবং পরিবেশক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রতিযোগিতা আইনের ১৫ ধারার উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর (ক) ও (খ) লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আইনে প্রতিযোগিতাবিরোধী চুক্তি, একচেটিয়া বা অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ এবং উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করার মতো কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে বিসিসির সদস্য আফরোজা বিলকিস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডকে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। রায়ের সঙ্গে একমত না হলে একই সময়সীমার মধ্যে কমিশনে রিভিউ আবেদন বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ, রিভিউ বা আপিল না করলে তা আদেশ অমান্য হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে কমিশন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে এস আলম গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কাজী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ফাইন্যান্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুব্রত কুমার ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য মেলেনি।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top