ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ
বাংলাদেশ ব্যাংকের একক উদ্যোগে ব্যাংকিংখাতের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এমনটাই মনে করেন দেশের এক শীর্ষ ব্যাংকার। একই ধারণা পোষণকারী আরেক বিশেষজ্ঞও বলেছেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া ব্যাংকখাতের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কঠিন।
ঢাকায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সামনেই এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “ব্যাংকিংখাতে সুশাসন ও আস্থাই সবচেয়ে বড় পুঁজি। মানুষ কোন ব্যাংকে টাকা রাখবে, তা নির্ভর করে সেই ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার মানের ওপর।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশে খেলাপি ঋণের হার ইতোমধ্যে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে একটি মামলা নিষ্পত্তি করতে ৮–১০ বছর সময় লাগে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ভুল বার্তা যায় এবং ফের ঋণ নিলে তা ফেরত দিতে হবে না—এই মানসিকতা ভাঙতে বিচারিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের ভাষ্য, খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় বাধা হচ্ছে, দীর্ঘসূত্রিতাসম্পন্ন মামলা। বাংলাদেশ ব্যাংক ইনসলভেন্সি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এমটিবি এমডি ও সিপিডি একই সঙ্গে তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, আইনি কাঠামো শক্ত না হলে কোনো ব্যাংক ফের সুষ্ঠুভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার ঘটনা উল্লেখ করে এমটিবি এমডি বলেন, “যদিও একীভূতকরণ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, এটি একক উদ্যোগে সফল হবে না; কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সরকার, ব্যাংক ও বিচার বিভাগ—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
ড. ফাহমিদা বলেন, “ব্যাংক একীভূতকরণ কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। একাধিক ব্যাংক একত্রিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। একীভূতকরণের সাফল্যের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক চাপের বাইরে নীতি প্রণয়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
তাঁরা দুজনেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ব্যাংকিং সংস্কারের গতি কমাতে পারে। তবে এটি প্রয়োজনে বড় সুযোগও হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট অঙ্গীকার দিলে ব্যাংকিংখাতের সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
বর্তমান গভর্নরের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগের প্রশংসা করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “এসব উদ্যোগ ব্যাংকিংখাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।” তবে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তব জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।













