ব্যাংক একীভূত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তবে এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প পদক্ষেপ নিতে এবং নিয়মের মধ্যে থেকে গ্রাহকদের বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে মঙ্গলবার (২ মার্চ) আয়োজিত এক সভায় গভর্নর এই স্পষ্ট বার্তা দেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাংক খাতের সংস্কারে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে গত বুধবার তাঁকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার এবং গত বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ফলে ব্যাংক সংস্কার ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে কিছুটা প্রশ্ন দেখা দিলেও এই সভার মাধ্যমে গভর্নর স্পষ্ট করেছেন যে, পূর্বের সংস্কার কার্যক্রম থামবে না। সভা সূত্রে জানা গেছে, শুরুতেই গভর্নরকে ব্যাংক একীভূত করার কারণ ও বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এরপর তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
গভর্নর নির্দেশ দিয়েছেন যে, ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে এনে আমানত বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে, তা আদায়ের জন্য প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার বাইরেও সব ধরনের বিকল্প পথ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া যেসব বন্ধ কারখানায় ব্যাংকের ঋণ আটকে আছে, সেগুলো নিয়মের মধ্যে থেকে পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং ঋণের টাকা ফেরত আসার পথ সুগম হয়। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সভায় আরও জানানো হয় যে, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোতে শিগগিরই স্থায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি লুটপাটের শিকার হয়েছিল দেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। বড় ধরনের অনিয়মের কারণে এসব ব্যাংকের অধিকাংশ ঋণই বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমানে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যাংক পাঁচটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারাই এখন ব্যাংকগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।













