রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গত দেড় বছরের অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই শিল্পমালিকদের নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন ১৪তম গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। মুখপাত্র জানান, গভর্নর অর্থনীতিকে কেবল স্থিতিশীল নয়, বরং দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে চান। বিশেষ করে বন্ধ কলকারখানাগুলো সচল করার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করাকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।
বিনিয়োগের পথে অন্যতম বাধা হিসেবে বিবেচিত বর্তমান উচ্চ সুদের হার নিয়ে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। নতুন গভর্নর এই বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়ে জানিয়েছেন, বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সুদের হারের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গভর্নর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে এখন অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে। ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে এই গতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একজন ব্যবসায়ী ব্যাকগ্রাউন্ডের গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের প্রথম দিনের বার্তাটি স্পষ্টতই ‘ব্যবসা-বান্ধব’। উচ্চ সুদের হার কমানো এবং বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুখবর হলেও, এটি বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।













