আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য আর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন থাকবে না। করদাতারা বছরের যেকোনো সময় তাঁদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন।
নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ৩০ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমা বা বারবার সময় বাড়ানোর প্রথা পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে। করদাতাদের দ্রুত রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি গ্রহণ করার কথা ভাবছে এনবিআর।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দিকে যাঁরা রিটার্ন দেবেন, তাঁরা কর ছাড় বা বিশেষ রেয়াত পাবেন। আর যাঁরা অর্থবছরের শেষের দিকে রিটার্ন জমা দেবেন, তাঁদের নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানা দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, যত দেরি হবে, করের বোঝা তত বাড়বে।
এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। এনবিআর এবার কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। এ পর্যন্ত ৪২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন।
যাঁরা আজ রাত ১২টার মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবেন না, তাঁরা অনলাইনে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। ই-রিটার্ন সিস্টেমে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনু ব্যবহার করে করদাতারা ঘরে বসেই এই আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। যাঁরা এখনো নিবন্ধন করেননি, তাঁরাও দ্রুত নিবন্ধিত হয়ে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে সম্পদ কর এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কর আরোপের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। মূলত কর প্রশাসনকে আধুনিক, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যেই এনবিআর এই ডিজিটাল রূপান্তর ও বছরজুড়ে রিটার্ন জমার পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে।
জরিমানা বা অতিরিক্ত কর এড়াতে এনবিআর আজ রাত ১২টার মধ্যেই সব করদাতাকে রিটার্ন দাখিল অথবা সময় বৃদ্ধির আবেদন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। আবেদনটি সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রেখেছে রাজস্ব বোর্ড।













