টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ সুদ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে (জিডিপি) বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩.৪৯ শতাংশে। যদিও সাময়িক প্রাক্কলনে এই হার ৩.৯৭ শতাংশ ধরা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিএস-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। জিডিপি হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট চূড়ান্ত মূল্য। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হলেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্প ও বিনিয়োগে, যার ফলে অর্থনীতি কার্যত থমকে গেছে।
এদিকে প্রবৃদ্ধি কমলেও গত অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় কিছুটা বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। এটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৭৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানকারী কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আগের অর্থবছরের ৩.৩০ শতাংশ থেকে কমে এ বছর প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৪২ শতাংশে।
জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা সেবা খাতেও মন্থর গতি লক্ষ্য করা গেছে। গত অর্থবছর এই খাতের প্রবৃদ্ধি ৪.৩৫ শতাংশে নেমেছে, যা আগের বছর ছিল ৫.০৯ শতাংশ।
তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শিল্প খাতে সামান্য ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। শিল্প-কারখানার উৎপাদন ৩.৭১ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এই মন্থর ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় না বাড়লে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না হলে প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী ধারা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৩.৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মূলত মধ্যম আয়ের দেশের লক্ষ্যমাত্রার সাথে বড় ধরনের বৈপরীত্য। বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং ব্যাংক খাতের অস্থিরতা নিরসন না হলে চলতি অর্থবছরেও বড় ধরনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।













