দেশের পরিবহন খাতের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এই লক্ষ্যে সরকারি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি।
পৃথক মতবিনিময় সভায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর ‘লোকসানি প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে রাখা হবে না; বরং একে একটি লাভজনক ও টেকসই বাণিজ্যিক মডেলে রূপান্তর করা হবে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা ও টিকিট কালোবাজারি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
রেল ভবনে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহনের কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তুলে এর বাণিজ্যিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা রেলের সেবা খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে এটি সরকারি কোষাগারে বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হয়।”
তিনি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী একটি ‘বাস্তবায়নযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ তৈরির নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনের যাত্রার সময় কমিয়ে এনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের গতি বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর সমীক্ষা ও পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিকেলে সচিবালয় ও বনানীস্থ সেতু বিভাগে কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে মন্ত্রী প্রকল্পের ব্যয় ও গুণগত মান নিয়ে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে শেষ করতে হবে। জনকল্যাণমুখী প্রতিটি টাকা যেন সঠিক খাতে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে পেশাদারিত্ব ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে সিস্টেম লস বা অপচয় কমিয়ে আনার আহ্বান জানান।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা রাখতে মন্ত্রী বলেন, “টিকিট কালোবাজারি কেবল সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নয়, বরং এটি প্রাতিষ্ঠানিক রাজস্ব হারানোরও কারণ। নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে, তাই ঈদ যাত্রাকে নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সভাগুলোতে অংশ নেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদ্বয় হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান। রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক ও রেলমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি টেকসই ও লাভজনক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে সড়ক ও সেতু বিভাগে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সড়কে পরিবহনে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এক ব্যতিক্রমী ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান, সড়কে পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে সংগৃহীত অর্থকে তিনি প্রথাগত ‘চাঁদা’ হিসেবে দেখছেন না।
মন্ত্রী বলেন, “সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়।”
মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক আধিপত্যের কথা স্বীকার করলেও তিনি জানান, মন্ত্রণালয় তদারকি করবে যেন অর্থের অপব্যবহার না হয়। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরে যানজট নিরসনে গত বছরের সফল মডেল অনুসরণের পাশাপাশি নতুন কৌশল গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।













