নতুন বছরের প্রথম মাসেই প্রবাসী আয়ে বড় প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া জানুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি। মাসিক হিসেবে এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসাইন খান রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় ছিল ২.১৮ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪৫.৪১ শতাংশ। মাসিক হিসেবে এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে, ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার। আর একই বছরের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাহ।
ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত দুটি কারণে জানুয়ারিতে প্রবাসী আয়ে ব্যাপক হারে উল্লম্ফন দেখা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন। তাঁদের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য প্রার্থীদের আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকেরা বিদেশ থেকে অতিরিক্ত অর্থ পাঠিয়ে থাকেন, যা সাধারণত নির্বাচনপূর্ব সময়ে রেমিট্যান্স বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়া মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে প্রবাসী শ্রমিকেরা পরিবার-পরিজনের জন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ পাঠান, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের বড় একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি বা বিকল্প পথে অর্থ পাঠানো থেকে সরে এসে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাচারের সুযোগ কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১৯.৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১.৮ শতাংশ।
ব্যাংকারদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে রেমিট্যান্স বড় ভূমিকা রাখবে।













