নির্বাচনী ব্যয় গোপন করলেই জেল-জরিমানা

ছবি: বাসস
ছবি: বাসস

ছবি: বাসস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী দাখিল, নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী দাখিল না করার শাস্তি, নির্বাচনে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ ও জাল ভোট প্রদান রোধকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল না করলে অথবা নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল না করলে অথবা এ সংক্রান্ত নিয়মাবলী পরিপালন না করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি)।

পরিপত্রে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎস ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী যথাসময়ে দাখিল নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার রোধকল্পে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয় বিবরণীর বিষয়ে ইতোমধ্যে জারিকৃত পরিপত্র-৪ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবুও এ সম্পর্কে সচেতন থাকার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে প্রার্থীগণকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে ইসি। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ২৯ অনুসারে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য তহবিলের সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী ফরম-২০ এ এবং প্রার্থীর সম্পদ, দায়-দেনা ও তার বাৎসরিক আয়-ব্যয় বিবরণী ফরম-২১ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করার বিধান রয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৩০ অনুসারে ফরম-২২ এ প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের নির্দেশনা রয়েছে। তাছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪৪গ এর দফা (১) অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে (যিনি নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করেননি, তিনি নিজেই তার নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে গণ্য হবেন) ফরম-২২-এ হলফনামাসহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হবে।

রিটার্নের সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৩১ অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণকে ফরম-২২ক (যে ক্ষেত্রে প্রার্থী স্বয়ং তার নির্বাচনী এজেন্ট, সে ক্ষেত্রে প্রার্থীর হলফনামা), ফরম-২২খ (নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করা হলে প্রার্থীর হলফনামা), ফরম-২২গ (নির্বাচনী এজেন্টের হলফনামা) এর নমুনায় হলফনামা দাখিল করতে হবে।

রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিলকৃত রিটার্ন ও হলফনামার অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে—বিজয়ী বা পরাজিত—নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন অবশ্যই দাখিল করতে হবে। এমনকি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনে কোনো ব্যয় না হলেও তা নির্ধারিত ফরমে উল্লেখপূর্বক রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪৪গ(১) অনুসারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দাখিলকৃত নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্নে উল্লেখ থাকতে হবে: প্রত্যেক দিন ব্যয়িত অর্থের বিবরণীসহ পরিশোধিত অর্থের সকল বিল, রসিদ ও ভাউচার, আদেশের অনুচ্ছেদ ৪৪খখ এর দফা (ক) তে বর্ণিত তফসিলি ব্যাংকে খোলা অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থ এবং উক্ত অ্যাকাউন্ট হতে উত্তোলিত অর্থের প্রত্যয়িত বিবরণী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ব্যক্তিগত খরচ, যদি থাকে, নির্বাচনী এজেন্ট অবহিত আছেন এরূপ সকল বিতর্কিত দাবির বিবরণী, নির্বাচনী এজেন্ট অবহিত আছেন এরূপ সকল অপরিশোধিত দাবির বিবরণী, এবং নির্বাচনী খরচের জন্য যেকোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের প্রমাণসহ প্রত্যেক উৎসের নাম উল্লেখ করে বিবরণী।

রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত বিধান সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দেবেন। তারপরও যদি কেউ বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯০ অনুসারে, যে ক্ষেত্রে নির্বাচনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে না, সেক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে। আর যদি নির্বাচন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারাধীন থাকে এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত অপরাধ সম্পর্কে কোনো আদেশ দেন, তবে আদেশ দানের তিন মাসের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারকে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। মামলা দায়েরের জন্য নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৩ অনুসারে, ৪৪কক অনুচ্ছেদের অধীন দাখিলকৃত বিবরণীতে বর্ণিত উৎস ব্যতীত অন্য কোনো উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করলে বা ৪৪খ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিধান যেমন—নির্বাচনী এজেন্ট ব্যতীত অন্য কারও মাধ্যমে অর্থ খরচ করা, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করা বা নিষিদ্ধ কার্যক্রম গ্রহণ করলে—অন্যূন দুই বছর ও অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

অন্যদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৪ অনুসারে ৪৪কক বা ৪৪গ এর বিধানাবলি পালনে ব্যর্থ হলে বা নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে সম্ভাব্য উৎসের বিবরণী ও ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল না করলে অথবা এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রতিপালন না করলে তা দুর্নীতিমূলক অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং এর জন্য অন্যূন দুই বছর ও অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top