ফের আলোচনায় ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইউসিবি কেলেঙ্কারি

ডিএসজে কোলাজ
ডিএসজে কোলাজ

ছবি: ডিএসজে কোলাজ

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের দুটি বড় কেলেঙ্কারি ফের একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। একদিকে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ৯০৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, অন্যদিকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি’র চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে ২৫ টাকা ঋণ জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনায় চার্জশিট দাখিল করেছে একই সংস্থা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের মামলার বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন রবিবার (৪ জানুয়ারি ) দুদক প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই এককালীন৬০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। ভুয়া সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট দাখিল করে অভিযুক্তরা ব্যাংকের শাখাকে চাপ প্রয়োগ করে এককালীন ঋণ বিতরণের অনুমোদন আদায় করে। নগদ অর্থ, পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর করে তারা মূল ঋণ আত্মসাত করে।

অনাদায়ী সুদ ও চার্জসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০৩ কোটি টাকা। এই মামলায় অভিযুক্ত ২৬ জনের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান উপ-গভর্নর ড. কবির আহমেদ, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক রন হক শিকদার, পারভীন হক শিকদার, মনোয়ারা শিকদারসহ ব্যাংকের একাধিক সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা।

ইউসিবির মামলার বিষয়ে একই দিন দুদক মহাপরিচালক জানান, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়ে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান রূকমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খোলা হয়। মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঋণ বিতরণের পর অর্থ প্রথমে চারটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়, পরে আরামিট গ্রুপের পূর্ব দায় সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয়। প্রায় নয় কোটি টাকা নগদ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, উভয় মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top