বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসেও সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে ঢাকা বিভাগ। তাই রেমিট্যান্স গ্রহণে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ নিয়মিত আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। একই সঙ্গে এই অর্থে লাখো পরিবার তাদের জীবিকা চালাতে পারছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগ পেয়েছে ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশের সমান।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। বিভাগটি পেয়েছে ৯৫৮ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে এসেছে ২৬৭ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার, যা মোটের ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের মাসিক প্রতিবেদনে বলেছে, “বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে, যেখানে মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে, সেখানে রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে এবং দেশের লাখো পরিবারকে সহায়তা দিয়ে প্রয়োজনীয় স্বস্তি এনে দিয়েছে।”
জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পেয়েছে ঢাকা জেলা, যার পরিমাণ ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যান্য বড় প্রাপক জেলার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা, যেখানে এসেছে ৩৬০ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার; কুমিল্লা জেলা, যেখানে এসেছে ১৮১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার; এবং সিলেট জেলা, যেখানে এসেছে ১৪৬ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্সের উৎস দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ দুই অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। যথাক্রমে দেশ দুটি থেকে এসেছে ৪৮৯ দশমিক ৪১ মিলিয়ন ডলার ও ৪৭৬ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে ওই মাসে এসেছে ৪০৪ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, জনবহুল দেশ বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে প্রবাসে কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ৭ হাজার মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য লাইসেন্স পেয়েছেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩,২২৩ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫-২৬) রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬,২৬১ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ দশমিক ০১ শতাংশ বেশি।
তফসিলভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছে। ডিসেম্বরে ব্যাংকটি পরিচালনা করেছে ৬৭১ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি, যারা পরিচালনা করেছে ৩৫৩ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার এবং ২৮১ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ধর্মীয় উৎসব এবং ক্যালেন্ডার ও অর্থবছরের শেষভাগে সাধারণত রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।











