বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও দ্রুত এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২,০০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো আবেদন করার সময়সীমা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।
আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার নং–০৯ (২৬ মে ২০২২) অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৩০ জুন ২০২৪-এর মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্প থেকে রপ্তানি আয় বাড়ানোর বড় সুযোগ আছে, বিষয়টি বিবেচনা করেই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশে কাজ করা সব তফসিলি ব্যাংক এই পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে এজন্য আগ্রহী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ এর সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে। এই বিভাগই পুরো স্কিমের কাজকর্ম তদারকি করবে।
পুনঃঅর্থায়নের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, কী কী কাগজ লাগবে এবং তহবিল কীভাবে পরিচালিত হবে; সবকিছু এই বিভাগের নির্দেশনা মেনে করতে হবে।
এই স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো নিজেদের নিয়ম মেনে গ্রাহকদের ঋণ বা বিনিয়োগ দিতে পারবে। তবে ঋণ অনুমোদনের আগে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ থেকে নিশ্চিত হতে হবে যে তহবিল পাওয়া যাবে কি না। আবেদন করার সময় ঋণ বিতরণের সময়সূচী ও পরিশোধের সময়সূচী জমা দিতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ধাপে ধাপে গ্রাহকদের ঋণ দেবে এবং সেই ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ বিতরণের পর ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে। প্রয়োজনে আংশিক কিস্তির বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়ন নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং সাধারণ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখাগুলোও এই সুবিধা নিতে পারবে। তবে তাদের নিজস্ব শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত প্রাক-অর্থায়ন নিয়ম মানতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নতুন নির্দেশনার বাইরে আগের সার্কুলারে যেসব শর্ত ছিল, সেগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারার ক্ষমতা ব্যবহার করেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।












