জরিমানা ছাড়াই বিদেশ থেকে টাকা ফেরত আনার সুযোগ: এনবিআর চেয়ারম্যান

Web Photo April 8 2026 NBR
ছবি: এনবিআর

বিদেশে পাচার হওয়া বা ভুলে নিয়ে যাওয়া অর্থ কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশে ফেরত আনার সুযোগ দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিয়মিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই ঘোষণা দেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “যারা ভুলবশত কিংবা যেকোনো কারণে দেশের টাকা বাইরে নিয়ে গেছেন, তারা চাইলে জরিমানা ছাড়াই নিয়মিত কর দিয়ে সেই অর্থ ফেরত আনতে পারবেন। আমাদের আইন ও পথ একেবারে উন্মুক্ত। নিয়মিত করদাতার ক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে, তিনি অর্থ বিদেশে নিয়েছেন কিন্তু রিটার্নে দেখাননি, তবে তিনি ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত (রিভাইজড) রিটার্ন দাখিল করে সেই অর্থ বৈধ করতে পারবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে কাউকে কোনো জরিমানা করা হবে না, বরং তাদের স্বাগত জানানো হবে।

আলোচনায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পক্ষ থেকে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের বিশেষ সুবিধা পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। এর জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকিদাতাদের উৎসাহিত করতে ‘অ্যামনেস্টি’ বা সাধারণ ক্ষমার যে সংস্কৃতি চলে আসছে, আমরা তা থেকে বের হয়ে আসতে চাই। ৫৫ বছরের এই পুরোনো কালচার আমরা চিরতরে বন্ধ করতে চাই। এখন থেকে নিয়মিত হারে কর দিয়েই অর্থ বৈধ করতে হবে। গত বছর থেকেই কম কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য না দেখানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই এখন বিপদে পড়ছেন। ২০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ২ কোটি টাকায় রেজিস্ট্রি করায় বাকি ১৮ কোটি টাকার ওপর করদাতাদের এখন বড় অংকের কর দিতে হচ্ছে এবং আমাদের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গেইন ট্যাক্স বা মূলধনি কর আইন অনুযায়ী বিক্রেতার দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা ক্রেতারা দিচ্ছেন, যা শৃঙ্খলার পরিপন্থী। গেইন ট্যাক্স যেন বিক্রেতাই পরিশোধ করেন, সে বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে রিহ্যাব নেতাদের পরামর্শ দেন তিনি।

রাজস্ব আদায়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আবদুর রহমান খান বলেন, “আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। জিডিপির তুলনায় আমাদের রাজস্ব আদায়ের হার অত্যন্ত কম। সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, পরিচালনা ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের জন্য আমরা কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।”

এদিনের বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বিএপিআই), সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ), লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধাগুলো উল্লেখ করে বলেন, ব্যাংক ছাড়াও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেম ও পেপলের মাধ্যমে এখন সহজেই টাকা পাঠানো যাচ্ছে এবং সরকার এ ক্ষেত্রে সরাসরি প্রণোদনা দিচ্ছে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top