খেলাপি ঋণ কমাতে গভর্নরের আল্টিমেটাম: মার্চেই নামবে ২৫ শতাংশে

ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ
ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ

ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে রোববার (১১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় তিনি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের পুনর্গঠন, পুনঃতফসিল, অবলোপন ও ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন।

ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, তবে একীভূত পাঁচটি ব্যাংক বাদ দিলে হার দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৫৩ শতাংশে।

গভর্নর বলেন, “খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণ আদায়ের বিকল্প নেই। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হলেও তা বারবার আসবে না।”

একই সঙ্গে মাইক্রোঋণ ও ডিজিটাল ন্যানোঋণে শুরু থেকেই সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাংক শাখায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যানার টাঙানো, এনজিও কর্মসূচিতে সিএসআর তহবিল ব্যবহার এবং স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন গভর্নর।

অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকিং খাত নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং কনফারেন্সে শনিবার (১০ জানুয়ারি) গভর্নর ড. মনসুর বলেন, “তত্ত্বে নিরাপদ হলেও বাস্তবে এই খাত ভয়াবহভাবে অপব্যবহৃত হয়েছে। কিছু ব্যাংকে প্রায় ৯৮ শতাংশ আমানত একটি পরিবারের কাছে ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যা ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।”

ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “এ ধরনের অনিয়মই তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতার মূল কারণ।”

রিজার্ভ পতন ও অর্থপাচারের প্রসঙ্গ টেনে গভর্নর জানান, এক সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থাকলেও তা নেমে আসে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে। ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে অর্থপাচারই এর বড় কারণ। সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করেছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড পুনর্গঠনের পর নতুন আমানত সংগ্রহ আস্থার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন আইন ও কাঠামো গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে একটি নতুন ইসলামী ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা চলছে। ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় নতুন ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন এবং আলাদা বিভাগ গঠনের কাজ এগোচ্ছে। তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর ইসলামী মানি মার্কেট ও সুকুক বাজার চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গভর্নর বলেন, “ব্যাংকিং বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে যারা সেই বিশ্বাস ভাঙে, তাদের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকিং পুনর্গঠনে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে, তবে প্রক্রিয়াটি শক্ত ভিত্তির ওপর শুরু হয়েছে।

কনফারেন্সে বক্তারা ইসলামী বিনিয়োগ কাঠামোর সঙ্গে ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন) সূচকের সমন্বয়, শরীয়াহসম্মত ইটিএফ এবং পৃথক ইসলামী মুদ্রানীতি উপকরণ চালুর প্রস্তাব দেন।

তাদের মতে, টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়তে নৈতিকতা, ঝুঁকি ভাগাভাগি এবং পরিবেশগত-সামাজিক জবাবদিহি একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top