মার্চের শুরুতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্রে প্রবৃদ্ধি ও সংকটের এক মিশ্র সমীকরণ ফুটে উঠেছে। একদিকে যেমন উৎপাদন ও রেমিট্যান্স প্রবাহে আশাব্যঞ্জক গতি দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত পৃথক পৃথক খবরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির এই বিপরীতমুখী ধারার তথ্য উঠে আসে।
ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দ্রুততর সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ বা পিএমআই। জানুয়ারির তুলনায় ১.৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এই সূচক এখন ৫৫.৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাণ খাত ছাড়া কৃষি, উৎপাদন ও সেবা—সবগুলো প্রধান খাতেই প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষ করে আসন্ন রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সেবা ও খুচরা খাতে চাহিদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এই প্রবৃদ্ধির পথে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উৎপাদনশীলতা বাড়লেও সাধারণ ভোক্তার পকেটে স্বস্তি ফেরেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯.১৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.৫৮ শতাংশ। এই বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম।
ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। একইসাথে খাদ্য বহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই জীবনযাত্রার ব্যয় সামান্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
মূল্যস্ফীতির এই অস্বস্তির মাঝে বড় আশার আলো দেখাচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনেই গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই এক সপ্তাহেই দেশে এসেছে ১.৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২৩.৫২৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতির এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিপর্যয় রোধ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে এবং সরকার বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।













