বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ লুটের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ আমানতকারীদের। গত এক দশকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় সাইফুল আলম (এস আলম) এবং তাঁর সহযোগীরা ব্যাংক খাত থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেছেন, তার দায় এখন সাধারণ মানুষের কাঁধে এসে চেপেছে। লুটেরাদের কাছ থেকে ঋণের অর্থ আদায় করতে না পেরে এখন আমানতকারীর সঞ্চয়ে হাত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘হেয়ারকাট’ নামে শরিয়াহ আইনের দোহাই দিয়ে আমানতকারীর মুনাফা কেটে নেওয়ার যে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি অনুসরণ করে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরদিন ১৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা শরিয়াহসম্মত উপায়েই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কোনো মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। ব্যাংকের শরিয়াহ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের ৭৫ লাখ আমানতকারীকে দুই বছরের মুনাফা দেওয়া হচ্ছে না।
অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত শরিয়াহ আইনের পরিপন্থী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজ মুজতবা রেজা আহমেদ ডিএসজে প্রতিবেদককে বলেন, কিসের ভিত্তিতে এই ব্যাংকগুলোতে হেয়ারকাট পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্টীকরণ করা উচিত। শরিয়াহ অনুযায়ী, যদি ব্যাংকের স্বাভাবিক লোকসান হতো, তাহলে আমানতকারী তা বহন করতে বাধ্য। কিন্তু এই ব্যাংকগুলোতে ঋণের নামে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, তাতে আমানতকারীর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই লোকসানের দায়ভারও আমানতকারী বহন করবেন না।
‘হেয়ারকাট’ কী?
ইসলামি ধারার ব্যাংকে ‘হেয়ারকাট’ বলতে সাধারণভাবে বোঝায়—আমানতকারীর টাকার ওপর জোরপূর্বক কাটা বা ক্ষতি স্বীকার করানো, যেখানে গ্রাহক তাঁর জমা টাকার পুরোটা ফেরত পান না। এটি কোনো স্বাভাবিক বা নিয়মিত ইসলামি ব্যাংকিং প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি চরম সংকটকালীন একটি ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত ব্যবস্থা। সহজ ভাষায় বোঝালে—ধরুন, আপনি ইসলামি ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। ব্যাংক যদি বলে, “আপনি এখন ১০ লাখের বদলে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবেন”, এই যে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া, একেই বলা হয় হেয়ারকাট।
একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি ও ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশসহ আরও কিছু ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে এস আলম ও তাঁর সহযোগীরা। এস আলমসহ বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যবসায়ীরা যখন ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে অর্থ লুট ও পাচার করছিল, সে সময় নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চোখ বন্ধ করে ছিল। কখনো কখনো উল্টো সহযোগীর ভূমিকায়ও ছিল।
এই ব্যাংকগুলোতে যে লোকসান হয়েছে, তা সাধারণ ব্যবসায়িক কারণে নয়, লুটপাটজনিত কারণে হয়েছে। এই লুটপাটের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা বিএসইসির কোনো কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। কিন্তু নিয়ন্ত্রকদের এই ব্যর্থতার বলি হচ্ছেন সাধারণ আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডাররা, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারী জানেন না কাকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে বা কোন বেনামি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ঋণের নথিপত্র জাল করা বা পর্ষদের অনিয়মের ওপর আমানতকারীর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সাধারণ গ্রাহক যাঁরা ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে টাকা রেখেছেন, তাঁদের ওপর ‘হেয়ারকাট’ (আমানত কাটা) কার্যকর করা একধরনের ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা ক্ষতিগ্রস্তকেই আরও শাস্তি দেওয়ার মতো।
শরিয়াহ কী বলে?
ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ব্যাংক এবং আমানতকারীর সম্পর্ক হলো ‘মুদারাবা’। এখানে আমানতকারী হলো পুঁজির মালিক (রাব্বুল মাল) এবং ব্যাংক হলো ব্যবস্থাপক (মুদারিব)। ব্যবসায়িক স্বাভাবিক কারণে লোকসান হলে আমানতকারী তা বহন করতে বাধ্য। কিন্তু লোকসান যদি ব্যবস্থাপকের (ব্যাংক) অবহেলা, চুক্তি লঙ্ঘন বা প্রতারণার কারণে হয়, তবে শরিয়াহ অনুযায়ী সেই লোকসানের দায় সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকের বা ব্যবস্থাপকের।
শরিয়াহ স্ট্যান্ডার্ডের সুনির্দিষ্ট বিধান বাহরাইন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এএওআইএফআই (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস), যার মানদণ্ড অনেক ইসলামি ব্যাংক অনুসরণ করে, তাদের শরিয়াহ স্ট্যান্ডার্ড নং ১৩ (মুদারাবা)-এর ৮/৩ ধারায় বলা হয়েছে—যদি ব্যবস্থাপক (ব্যাংক) চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘন করে, আমানত রক্ষা করতে অবহেলা করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তবে তাকেই লোকসানের পুরো দায়ভার বহন করতে হবে। আমানতকারীর পুঁজি থেকে এক টাকাও কাটা যাবে না।
বেনামি ঋণ ও দুর্নীতি নিয়ে শরিয়াহর ব্যাখ্যা ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, বেনামি ঋণ দেওয়া বা ব্যাংকিং রীতিনীতি লঙ্ঘন করে অর্থ লোপাট করাকে ‘তাদা’ বা ট্রান্সগ্রেশন হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি এমন এক অপরাধ যেখানে ব্যবস্থাপক জেনে-বুঝে পুঁজিদাতার আমানতকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। শরিয়াহ আইন অনুযায়ী, ‘তাদা’র ক্ষেত্রে কোনো লোকসান হলে তা ব্যবস্থাপক বা ব্যাংকের ব্যক্তিগত দায়। আমানতকারীদের মুনাফা বা মূলধন থেকে এই লুণ্ঠিত অর্থ সমন্বয় করা ‘আকল বিল বাতলি’ বা অন্যায্যভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করার শামিল, যা কোরআনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ন্যায়বিচারের সাধারণ নীতি হলো, যে পক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, সেই পক্ষই ফলাফলের দায় নেবে।
ইসলামি ব্যাংকিং, আমানতকারীর সুরক্ষা ও চলমান ‘হেয়ারকাট’ প্রসঙ্গে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। ডিএসজে প্রতিবেদকের সাথে আলোচনাকালে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তার বড় অংশই শরিয়াহ আইনের কাঠামোর ভেতরে পড়ে না। এখন যে মার্জার বা একীভূতকরণ হচ্ছে, সেটাও কোনোভাবেই শরিয়াহ বিষয়ক নয়।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে যেসব তথাকথিত ইসলামি ব্যাংকিং প্রোডাক্ট চালু আছে, সেগুলোর প্রকৃত ব্যবহারও প্রশ্নবিদ্ধ। সত্যিকার অর্থে ইসলামি ব্যাংকের যে প্রোডাক্টগুলো থাকার কথা, সেগুলো বাংলাদেশে ওই অর্থে ব্যবহারই হয় না। বাস্তবে যেগুলো চালু আছে, সেগুলো অনেকটা স্থির সুদহারের মতোই কাজ করছে।”
কোনো কোনো ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি এবং আদায়ের অনুপযুক্ত। যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক নাম ধারণ করেছে সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি, গ্লোবাল ইসলামি, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক।
এস আলমের লুটের কারণে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৯৬.২ শতাংশ। চতুর্থ প্রজন্মের গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকের খেলাপির পরিমাণ মোট ঋণের ৯৫.৭ শতাংশ। এ ছাড়া সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের ২৭ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা ও ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৭ হাজার ১১৩ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি।
এর বাইরে এস আলমের কারণে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশের ১ লাখ ৬ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা মোট ঋণের ৫৮.২৪ শতাংশ। নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৫৬.৮৬ শতাংশ।
এসব ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের ঋণের বিশাল অংশ নেওয়া হয়েছে পিয়ন, গাড়িচালক বা গৃহকর্মীদের নামে ভুয়া কোম্পানি খুলে। এসব ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় খেলাপি ঋণগুলো আদায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। শরিয়াহ অনুযায়ী, ব্যাংক যখন আমানতকারীর টাকা ‘অছি’ হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সেই টাকা রক্ষা করা ব্যাংকের দায়িত্ব। পর্ষদ বা মালিকপক্ষ যদি অস্ত্র ঠেকিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে টাকা লুট করে, তবে সেই অপরাধের শাস্তি আমানতকারীকে দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
“শরিয়াহ নয়, সিস্টেমিক ফেইলিওর”
ড. শাহ মো. আহসান হাবীব আমানতকারীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে একে সরাসরি ‘কালেক্টিভ ফেইলিওর’ বা সম্মিলিত ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর ভাষায়, “এটা শুধু কোনো একটি ব্যাংকের ব্যর্থতা নয়। এখানে ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা আছে, সেন্ট্রাল ব্যাংকের ব্যর্থতা আছে, গভর্নমেন্টের ব্যর্থতা আছে। পুরো সিস্টেমটাই এখানে ফেল করেছে।” তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বা রিস্ক ম্যানেজমেন্টে একটি ‘মার্জিন অব এরর’ ধরেই নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ঝুঁকি সামাল দেওয়ার মূল হাতিয়ার হচ্ছে শক্তিশালী আইন ও কঠোর শাস্তির সংস্কৃতি, যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত।
আহসান হাবীব বলেন, “যে দেশে লিগ্যাল এনফোর্সমেন্ট দুর্বল, সে দেশে ব্যাংকিং করা এক্সট্রিমলি ডিফিকাল্ট। টাকা ফেরত না দিলে জেল হবে—এই ভয় যদি মানুষের মধ্যে না থাকে, তাহলে ব্যাংকিং সিস্টেম টিকবে কীভাবে?” তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে এত বড় বড় ব্যাংকিং অপরাধের পরও কাউকে কি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে? “আজ পর্যন্ত আপনি কি এমন কোনো উদাহরণ দেখাতে পারেন, যেখানে কেউ ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে শাস্তি পেয়েছে? মানুষ তাহলে কেন ভয় পাবে?” তাঁর মতে, এই শাস্তিহীনতার সংস্কৃতিই ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন তুলে ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, “এই যে ব্যাংকগুলো থেকে এত টাকা লুট হয়ে গেল, শেষ পর্যন্ত কি এর দায় সাধারণ আমানতকারীদের ঘাড়ে এসে পড়বে?” তিনি বলেন, ব্যাংকিংয়ের মৌলিক কাঠামো অনুযায়ী কিছু দায় আমানতকারীর ওপর আসতেই পারে। কিন্তু তার আগে একটি মৌলিক শর্ত আছে, “যারা লুট করেছে, তাদের কি শাস্তি হয়েছে? তাদের কি জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে? শাস্তি ছাড়া শুধু আমানতকারীর ওপর দায় চাপানো—এই দুইটা একসাথে হতে পারে না।”
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে ফরেনসিক অডিটের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলো থেকে কারা ঋণ নিল কিংবা দিল, সব বিষয়ে ফরেনসিক অডিট হচ্ছে। অডিট শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা ইতিমধ্যে ‘ভুয়া’ অডিট করেছে, তাদেরকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে জানানো হয়েছে।
এদিকে বিপুল ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে স্থায়ী সম্পদ যতটুকুই রয়েছে, তা বিক্রি করে ঋণ সমন্বয়ও করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। এস আলমের ঋণের বিপরীতে জামানত থাকা সম্পত্তি বিক্রির জন্য এখন পর্যন্ত ৩৫টি নিলাম ডাকা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো ৩৪টি নিলামে কোনো ক্রেতাই আসেনি। ভয় এবং মাফিয়া চক্রের প্রভাবের আশঙ্কায় সাধারণ ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব সম্পত্তি কিনতে সাহস পাচ্ছে না। অন্য দিকে ঋণের টাকা তো ফেরত দিচ্ছেই না, বরং বাংলাদেশে যেসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা দাবি করছেন এস আলম।
সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্বই সুরক্ষা ঢাল
বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে এস আলম এখন নিজেকে সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি করছেন। আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের ভয় দেখিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে হুমকি দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, তিনি বিদেশ বিনিয়োগের কোনো বৈধ অনুমতি নেননি। অর্থাৎ, দেশের টাকা অবৈধভাবে পাচার করে তিনি এখন বিদেশের মাটিতে বসে সুরক্ষা খুঁজছেন।













