একীভূত সব ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু

ছবি: ডিএসজে প্রদায়ক
ছবি: ডিএসজে প্রদায়ক

ছবি: ডিএসজে প্রদায়ক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত হওয়া পাঁচ বাংকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখার সাইনবোর্ডও বদলে ফেলা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগের নামও রয়ে গেছে। ধীরে ধীরে সবকটির সাইনবোর্ডও বদলে ফেলা হবে বলে জানা গেছে।

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন। আগের ব্যাংকের চেক দিয়েই এসব লেনদেন করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাঁচটি ব্যাংককেই সব সাইনবোর্ড বদলে ফেলতে বলা হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আগের নামগুলিও বহাল থাকবে। একীভূত প্রক্রিয়া শেষ হলে শুধু নতুন নাম- ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামেই এই ব্যাংকগুলি পরিচিতি পাবে।

যে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠিত হয়েছে, সেগুলি হচ্ছে- ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক’, ‘গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক’, ‘ইউনিয়ন ব্যাংক’, ‘এক্সিম ব্যাংক’ ও ‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক’। এই পাঁচটি ব্যাংকের দায়, সম্পদ ও জনবল অধিগ্রহণ করেছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এরপর ধীরে ধীরে এই পাঁচটি ব্যাংক বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ একাধিক শাখায় দেখা গেছে, কোথাও ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। কোথাও আবার ঝোলানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের শাখাগুলিতেও নতুন সাইনবোর্ড ঝোলানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন ব্যাংক গঠনের স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। এতে নতুন ব্যাংকের মূলধন ও পাঁচ ব্যাংকে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের আমানত নিরাপদ থাকবে বলে জানানো হয়।

স্কিমে বলা হয়, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত একীভূতকরণ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে যেকোনো সময় উত্তোলনযোগ্য। দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রথম এক লাখ টাকা স্কিম কার্যকরের তিন মাস পর তোলা যাবে।

এরপর পর্যায়ক্রমে ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮ ও ২১ মাস পর এক লাখ টাকা করে উত্তোলন করা যাবে। বাকি অর্থ ২৪ মাস পর উত্তোলন করা যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই সময়সূচি প্রযোজ্য হবে।

স্কিম অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে, ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন দিয়েছে, যা রেজল্যুশন স্কিমে ‘ক’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে।

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানতের অংশ থেকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরিত হবে, যা ‘খ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের অংশ থেকেও সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরিত হবে, যা ‘গ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্কিমে আরো বলা হয়, পাঁচ ব্যাংকের দায়, সম্পদ ও জনবল অধিগ্রহণ করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। ইতোমধ্যে, রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় খোলা হয়েছে। এর আগে পাঁচ ব্যাংকের সব শেয়ার শূন্য ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন। বাকি চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তারা দুজনেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

এসব ব্যাংকে নামে-বেনামে তাদের শেয়ার ছিল এবং তারা ঋণের সুবিধাভোগী ছিলেন। এ কারণে ব্যাংকগুলির সব শেয়ার শূন্য করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top