ঋণনির্ভর জলবায়ু অর্থায়ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে দেনার ফাঁদে ফেলছে

ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ
ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ

ঋণনির্ভর জলবায়ু অর্থায়ন, অর্থ ছাড়ের ধীরগতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কার উচ্চ ঝুঁকি—এই তিনটি বিষয় একত্রে কয়েক ডজন নিম্নআয়ের এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ঋণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ শনিবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩০) ‘জলবায়ু ঋণঝুঁকি সূচক ২০২৫’ বা ‘ক্লাইমেট ডেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৫’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই সূচকে ৫৫টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি দেশকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’, ৩৪টিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’, ৬টিকে ‘মাঝারি’ এবং ২টিকে ‘নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাহেল অঞ্চল ও পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় কিছু অংশে ঘন ঘন দুর্যোগ দেখা যায়, কয়েকটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের মাথাপিছু ঋণের বোঝা অনেক বেশি এবং দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি বড় অর্থনীতিতে ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

ক্লাইমেট ডেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৫ মূলত ৫৫টি দেশের জলবায়ু অর্থায়নের কাঠামো, জলবায়ু ঝুঁকি, ঋণের সূচক, দারিদ্র্য, আয়, ক্রেডিট রেটিং এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে ০-১০০ স্কেলে একটি স্কোর তৈরি করেছে এবং ২০২৮ ও ২০৩১ সালে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তার পূর্বাভাসও দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্লাইমেট ডেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৫ এর ফল তুলে ধরেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষণা বিশ্লেষক সাবরিন সুলতানা ও সামিরা বাশার।

৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে ৪৭টি ইতোমধ্যেই উচ্চ বা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে এবং মাত্র ২টি দেশ নিম্ন ঝুঁকিতে। ২০২৩ সালে এই দেশগুলো ঋণদাতাদের ৪৭.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে, অথচ জলবায়ু মোকাবেলার জন্য পেয়েছে মাত্র ৩৩.৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সমীক্ষাভুক্ত দেশগুলোর প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর গড়ে প্রায় ২৩.১২ মার্কিন ডলার জলবায়ু-সম্পর্কিত সরকারি ঋণ জমা হয়েছে।

এই ঋণের বোঝা দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি (মাথাপিছু ২৯.৮৭ ডলার), তারপরে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (মাথাপিছু ২৩.৫৮ ডলার) এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় (মাথাপিছু ২১.৬১ ডলার)।

প্রতিশ্রুতি এবং অর্থ ছাড়ের অনুপাত অনেক দেশেই দুর্বল। যেমন অ্যাঙ্গোলায় এই হার মাত্র ০.১৮। দক্ষিণ এশিয়ায় মিশ্র চিত্র দেখা যায় (আফগানিস্তান ০.৯৭; বাংলাদেশ ০.৬৩) এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতেও এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ (সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ০.৩৩; টুভালু ০.৫৯)। প্রতিশ্রুতির চেয়ে সুরক্ষা পিছিয়ে থাকায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বিলম্বের ঝুঁকিতে পড়ছে।

ঋণের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা একটি সাধারণ প্রবণতা। যেমন বাংলাদেশে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত ২.৭০, যা নেপালের ০.১০ অনুপাতের ঠিক বিপরীত। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে ঋণের অংশীদারত্ব বাড়ছে (যেমন: গিনি ০.৭৬), যেখানে অনেক দ্বীপরাষ্ট্র এবং ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো ছোট ও অনিশ্চিত অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top