ছবি: ডিএসজে কোলাজ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভবনে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে হঠাৎ প্রবেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শতাধিক নেতাকর্মী, যারা নিরাপত্তা কর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে ভবনের নিচতলায় ঢুকে পড়েন।
পরে চারজনের একটি ছোট দল নিয়ে আব্বাস ভেতরে যান এবং প্রথমে তৃতীয় তলায় অবস্থান করেন, এরপর ৩০ তলা ভবনে যান। এ সময়ও তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী ছিলেন। বাইরে সোনালী ব্যাংকের গেটের সামনে আরও শতাধিক কর্মী অবস্থান নেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কেপিআই প্রতিষ্ঠান, যেখানে এ ধরনের রাজনৈতিক মহড়া নজিরবিহীন এবং দুঃখজনক। তাদের মতে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আসলে একাই আসা উচিত ছিল। অতীতে মন্ত্রী, এমপি কিংবা গভর্নররা কখনোই এভাবে প্রবেশ করেননি। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে আসা একজন অবশ্য দাবি করেছেন, এটি নিয়মিত ব্যাংক কাজ ছাড়া কিছু নয়।
সম্প্রতি তিনি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখিয়েছেন প্রায় ৭০ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন দাম দেখিয়েছেন প্রায় চার কোটি টাকা, তবে বর্তমান মূল্য উল্লেখ করেছেন ‘অজানা’। একই সঙ্গে ২৫ কোটি টাকা দায় থাকার তথ্যও দিয়েছেন।
চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আব্বাস অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার ছেলে ইয়াসির আব্বাস বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা পরিবারকে ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকে তার হঠাৎ প্রবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সংযোগ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।











