অর্থনীতি ও কৃষির রূপান্তরে যে দাওয়াই দুই উপদেষ্টার

ছবি: পিআইডি ও বাসস
ছবি: পিআইডি ও বাসস

বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও সামনে রয়েছে পাহাড়সম কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। একদিকে ভঙ্গুর ব্যাংক খাত আর উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস—এই দুই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই নীতিনির্ধারক।

ঢাকায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও কৃষি লক্ষ্যমাত্রার নিয়ে কথা বলেন।

তাঁদের মতে, শুধু ভৌত অবকাঠামো দিয়ে উন্নয়নের ‘কঙ্কাল’ তৈরি নয়, বরং প্রকৃত সমৃদ্ধি তথা টেকসই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ ও স্বাবলম্বী কৃষক।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অর্থ পাচারের ফলে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, “পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, তবে এটি পুরোপুরি কমতে কিছুটা সময় লাগবে।”

অন্যদিকে, ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’ শীর্ষক কর্মশালায় কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কৃষকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিল্পকারখানার মালিকরা ঋণ নিয়ে মাফ পেলেও কৃষকরা ঋণ পেতে নানা বাধার সম্মুখীন হন। কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না, অথচ তাদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নতি অসম্ভব।”

উপদেষ্টার ভাষ্য, টাকা থাকলেই সবসময় বিদেশ থেকে পণ্য পাওয়া যায় না, তাই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে।

কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পরিকল্পনা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ সুদহারকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থে উচ্চ সুদহার বজায় রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও জানান, সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে শতভাগ অনলাইন টেন্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শুধু ভৌত অবকাঠামো দিয়ে কঙ্কাল তৈরি করা যায়, কিন্তু মানসম্মত মানবসম্পদ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।” ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

কৃষি খাতের উন্নয়নে ‘আউটলুক ২০৫০’ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে কৃষি উপদেষ্টা বলেন, আগামী ২৫ বছরে বাংলাদেশের কৃষি রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই পরিকল্পনা ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।

দুই উপদেষ্টাই জানান, সরকারি সম্পদ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদনশীল খাত এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধিই হবে আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top