প্রকাশিত সংবাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলেও দায়ের করেনি কোনো অভিযোগ। অথচ খবরটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য মার্কিন সাইবার সিকিউরিটি ফার্মের মাধ্যমে ‘ঢাকা স্ট্রিট জার্নাল’-কে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্তে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য ধামাচাপা দিতে এই অভিনব কৌশল নিয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি।
বেসরকারি খাতে সর্বপ্রথম অনুমোদনপ্রাপ্ত এই বাণিজ্যিক ব্যাংকটির আচরণকে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি অবজ্ঞা, একই সঙ্গে সাংবাদিকতার ওপর ‘ডিজিটাল সেন্সরশিপ’ আরোপের চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জোবায়ের খান ডিএসজে প্রতিবেদককে বলেন, “সিটি ব্যাংক যদি প্রকাশিত সংবাদে সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তারা ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর অধীনে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারত। এমনকি সংক্ষুব্ধ পক্ষ হিসেবে তারা আদালতে মামলা করারও অধিকার রাখে। কিন্তু এসব স্বীকৃত আইনি পথ এড়িয়ে একটি বিদেশি সাইবার সিকিউরিটি ফার্মের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা।”
তিনি আরও বলেন, “বিদেশি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট সরানোর জন্য এভাবে সরাসরি আইনি হুমকি দিতে পারে না। তা ছাড়া তাদের নোটিশে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন ভঙ্গের কথা উল্লেখ নেই। এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিদেশি ফার্মের মাধ্যমে এই ধরনের নোটিশ পাঠানো মূলত সাংবাদিকদের মধ্যে ভয় সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র।”
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমও মনে করেন সিটি ব্যাংকের এই আচরণ দুরভিসন্ধিমূলক, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।
ডিএসজে প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “কোনো সংবাদে সংক্ষুব্ধ পক্ষের অধিকার আছে প্রতিবাদ জানানোর। নিয়ম হলো, সংবাদ প্রকাশের পর যদি কোনো তথ্যে তাদের আপত্তি থাকে, তবে তারা সেটা উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপি পাঠাবে। এমনকি সংক্ষুব্ধ হলে তারা প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারে বা আদালতের আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু এই স্বীকৃত পথগুলো এড়িয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দেওয়া বা ডিজিটাল সেন্সরশিপের চেষ্টা করা অত্যন্ত অনৈতিক এবং অন্যায়।”
সাংবাদিক নেতা খুরশিদ আরও বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজ থেকে দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতেই কাজ করেন। তথ্যের বদলে হুমকি-ধমকি দিয়ে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ঢাকা স্ট্রিট জার্নাল তার অবস্থানে ঠিক আছে। এ ধরনের হুমকির সামনে পেশাদার সাংবাদিকরা কখনোই মাথা নত করবে না।”
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সিটি ব্যাংকের অন্দরমহলে ‘লুটপাটের উৎসব’—শিরোনামে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই সংবাদে জানানো হয়, ব্যাংকের নিজস্ব বিনিয়োগ নীতিমালার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে আমানতকারীদের তহবিল থেকে বেআইনি সুবিধার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ব্যাংকটির তিন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা।
বিএসইসির তদন্তের বরাত দিয়ে সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রভাবশালী কর্মকর্তারা ব্যাংকের পোর্টফোলিওকে কার্যত ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছেন—যেখানে ঝুঁকি গেছে ব্যাংকের ঘাড়ে, আর লাভ ঢুকেছে ব্যক্তিগত পকেটে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সিটি ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, তাদের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে এটি সরিয়ে ফেলার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। যার প্রেক্ষিতে ডিএসজে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করে এবং তা হুবহু প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদলিপিটি না পাঠিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে তা ব্যাখ্যা হিসেবে শেয়ার করে। সেটি ডিএসজে প্রতিবেদকের হাতে আসার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি যে ফলোআপ রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় তার শিরোনাম ছিল—‘সিটি ব্যাংকে পর্দার আড়ালে কী ঘটছে?’
চলতি মাসের শুরুতে সিটি ব্যাংকের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘আইজুলজিক ইনকর্পোরেটেড’ থেকে পাঠানো নোটিশটি ডিএসজে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
নোটিশে তারা লিখেছে, “আমাদের মক্কেল সিটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটি বিভ্রান্তিকর আর্টিকেল প্রকাশের কারণে ওয়েবসাইটটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। সিটি ব্যাংক দাবি করেছে, ওই আর্টিকেলটি বিভ্রান্তিকর এবং তারা আপনার ওয়েবসাইট থেকে তাদের সম্পর্কিত সকল তথ্য-উপাত্ত অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার অনুরোধ জানাচ্ছে।”
সিটি ব্যাংক সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতার দাবি জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট বেন কলিন্স লিখেছেন, “আইজুলজিক ইনকর্পোরেটেড সিটি ব্যাংককে সাইবার নিরাপত্তা সেবা প্রদান করে এবং আমরা তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য পূর্ণ ক্ষমতাপ্রাপ্ত। আমাদের মক্কেল প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোনো তৃতীয় পক্ষ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শরণাপন্ন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
বেন কলিন্স আরও লিখেছেন, “আমি সরল বিশ্বাসে এবং আমার মক্কেলের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে—এমন যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাস থেকে এই নোটিশটি প্রদান করছি। আমি হলফ করে বলছি যে, এই বিজ্ঞপ্তিতে প্রদত্ত তথ্য সত্য ও সঠিক এবং সিটি ব্যাংকের পক্ষে কাজ করার আইনগত অধিকার আমার রয়েছে।”
কী বলছে সিটি ব্যাংক
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আইটি ডিপার্টমেন্ট আইজুলজিককে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বলে ডিএসজে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন সিটি ব্যাংকের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা মির্জা গোলাম ইয়াহইয়া।
বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কনটেন্ট টেকডাউনের নোটিশ পাঠিয়ে ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের ওপর চাপ তৈরি করার এই ঘটনায় “আমি নিজেও বিব্রত” উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাননি এই কর্মকর্তা।
অ্যাডভোকেট জোবায়ের খানের মতে, “বিদেশি ফার্মের মাধ্যমে এই ধরনের নোটিশ পাঠানো মূলত সাংবাদিকদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক ভয় সৃষ্টির অপচেষ্টা। কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কাজ করা সংবাদমাধ্যমের ওপর এ ধরনের কোনো ‘জুডিশিয়াল’ বা ‘কোয়াসি-জুডিশিয়াল’ ক্ষমতা নেই।”
“ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন কোনোভাবেই ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’ বা ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ নয়, বরং এটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়। তাই ডিজিটাল সেন্সরশিপের এই কৌশল আইনি লড়াইয়ে ধোপে টিকবে না,” যোগ করেন এই আইনজীবী।
উল্লেখ্য, সিটি ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) মতো সংস্থা, যাদের মনোনীত পরিচালকও রয়েছেন। হংকং-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী আর্থিক সাময়িকী ফাইন্যান্স এশিয়ার বিবেচনায় সেরা ব্যাংক হিসেবে গত জুনে ‘ফাইন্যান্স এশিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছে ব্যাংকটি। একই আয়োজনে সিটি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল এবং সিটি ব্রোকারেজও স্ব স্ব ক্ষেত্রে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিল।
গত নভেম্বরে ‘বাংলাদেশ সি-সুইট অ্যাওয়ার্ডস’-এর চতুর্থ আসরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন ‘সিইও অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও পেয়েছেন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের সম্পাদক আলতাফ মাসুদ নিজেই সিটি ব্যাংক সংক্রান্ত খবরগুলোর প্রতিবেদক। তিনি বলেন, “ভয়ভীতি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিপত্র ধামাচাপা দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।”
তাঁর মতে, বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর অনিয়মগুলোর কোনো দাপ্তরিক জবাব না দিয়ে বিদেশি ফার্মটিকে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আলতাফের ভাষ্য, “প্রথম অনুসন্ধানটি সম্পূর্ণভাবে বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদন, ব্যাংকটিকে পাঠানো অফিশিয়াল নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য ও বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। সিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ঘাটতি এবং পুঁজিবাজার সংক্রান্ত কিছু গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে সেখানে।”
“আমরা প্রতিটি শব্দের স্বপক্ষে দাপ্তরিক প্রমাণ হাতে রেখেই সংবাদটি প্রকাশ করেছি। আইজুলজিকের পাঠানো নোটিশটিও আমরা পর্যালোচনা করেছি। তারা প্রতিবেদনে থাকা কোনো তথ্যের ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। তবুও এরই মধ্যে তাদের আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে মেইল পাঠিয়েছি,” যোগ করেন তিনি।
ডিএসজে সম্পাদক জানান, বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনের কপি ঢাকা স্ট্রিট জার্নালের হাতে রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে সিটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংবাদ প্রকাশের পরও কোনো আনুষ্ঠানিক ‘প্রতিবাদ’ জানানোর পরিবর্তে ব্যাংকের কর্মকর্তারা নানা কৌশলে প্রতিবেদনটি গায়েব করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে আলতাফ বলেন, “ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই সংবাদটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও, সেখানেও তথ্যগত ভুল ধরার চেয়ে বরং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”
“সর্বশেষ তারা যে বিদেশি ফার্মের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়েছে, তাদের অতীত অনুসন্ধান করে আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা আঁতকে ওঠার মতো। ‘ডিজিটাল সেন্সরশিপ’ আরোপে সংবাদমাধ্যমের সাইটে সাইবার হামলা চালানোর মতোও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সিটি ব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে এমন একটি প্রতিষ্ঠান লেলিয়ে দিয়ে নিজেদের চেহারা উন্মোচিত করেছে, যা অপ্রত্যাশিত,” যোগ করেন দুই দশক ধরে সক্রিয় এই সাংবাদিক।
দেশীয় আইন ও সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে সিটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে কি না সেটা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়ে আলতাফ মাসুদ আরও বলেন, “প্রয়োজনে এ ব্যাপারে বিএসইসি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ তথ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।”
কেন কুখ্যাত আইজুলজিক?
আইজুলজিক হলো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বিতর্কিত বেসরকারি সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম। বিশ্বজুড়েই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দমনে এদের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
আইজুলজিক মূলত ইন্টারনেটে তাদের ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে থাকা তথ্য বা নিউজ মনিটর করে এবং তা সরিয়ে ফেলার জন্য নোটিশ পাঠায়। কোনো সংবাদের তথ্যে ভুল প্রমাণ করতে না পেরে অনেক সময় এরা ‘কারিগরি ত্রুটি’ বা ‘কপিরাইট’-এর দোহাই দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। একে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘ডিজিটাল সেন্সরশিপ’ বা করপোরেট পেশিশক্তির অপব্যবহার হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্বজুড়ে আইজুলজিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সংবাদ দমনের এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘স্ট্র্যাটেজিক ল-স্যুইটস এগেইনস্ট পাবলিক পার্টিসিপেশন’ (এসএলএপিপি) বা ‘ডিজিটাল সেন্সরশিপ’। ফিলিপাইনের অন্যতম প্রাচীন সংবাদমাধ্যম ‘বুলটলাট’-এর ওপর সাইবার হামলা এবং ডিজিটাল সেন্সরশিপের নেপথ্যে আইজুলজিকের নাম এসেছিল।
গুগল এবং বিভিন্ন টেক জায়ান্টদের তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘লুমেন ডেটাবেস’-এ আইজুলজিকের পাঠানো অসংখ্য ‘নোটিশ’ সংরক্ষিত আছে। সেখানে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় ব্যাংক এবং রিয়েল এস্টেট কোম্পানি তাদের কেলেঙ্কারি ঢাকতে আইজুলজিককে দিয়ে ‘ভুয়া’ কপিরাইট ক্লেইম বা ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট নোটিশ পাঠিয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর হওয়া সত্ত্বেও আইজুলজিক সেগুলোকে ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দিয়েছে। আইজুলজিকের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো তারা ডিজিটাল মিলেনিয়াম কপিরাইট অ্যাক্ট (ডিএমসিএ)-এর অপব্যবহার করে। যখন কোনো নিউজ পোর্টাল একটি ব্যাংকের দাপ্তরিক চিঠির ছবি বা রিপোর্টের ছবি প্রকাশ করে, তখন আইজুলজিক সেই ছবির ‘মালিকানা’ দাবি করে নোটিশ পাঠায়। তাদের উদ্দেশ্য থাকে তথ্যের বদলে ছবির অজুহাতে পুরো নিউজটি ডিলিট করানো।













