অনিয়ম ঠেকাতে ট্রাভেল এজেন্সি আইনে সংশোধন

ডিএসজে আর্কাইভ
ডিএসজে আর্কাইভ

ছবি: ডিএসজে আর্কাইভ।

কোনো ট্রাভেল এজেন্সি আইন লঙ্ঘন করলে এক বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধনের লক্ষ্যে সরকার জারি করা এক অধ্যাদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ০১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে প্রণীত নিম্নে উল্লিখিত অধ্যাদেশটি জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।”

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, “অফলাইন ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনায় গ্রাহকসেবা, টিকিটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আকাশপথে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনা এবং সাধারণ যাত্রীসহ অভিবাসী কর্মীদের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে হয়রানি রোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ সংশোধন করা প্রয়োজন।”

এতে বলা হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় থাকায় এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন।

এই অধ্যাদেশের নাম ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এছাড়া আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্ন কিছু থাকলেও ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে এই আইনের বিধানই প্রাধান্য পাবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আকাশপথে ভ্রমণসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। যাত্রীকে মিথ্যা প্রলোভন দেখানো, প্রতারণা করা, অন্য ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয়, ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যমেই সব লেনদেন করতে হবে।

দফা (ঙ)-এর পর নতুন দফা যুক্ত করে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের নামে ট্রাভেল এজেন্সি থাকলে এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর, মালিকের পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, উত্তরাধিকার সনদ, অর্থের উৎস, চূড়ান্ত উপকারভোগী মালিকের নাম ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি স্বার্থ-নিরপেক্ষভাবে ব্যবসা পরিচালনার তথ্যও জমা দিতে হবে।

এতে বলা হয়েছে, অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টি হবে ১০ লাখ টাকা এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি টাকা।

প্রতি বছর ট্রাভেল এজেন্সিকে আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের কাছে দাখিল করতে হবে। দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে প্রতি তিন বছর পরপর নিবন্ধন সনদ নবায়ন করা যাবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, টিকিটিংয়ের উদ্দেশ্যে কোনো এয়ারলাইনসের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম হিসেবে ব্যবহৃত দেশি বা বিদেশি অ্যাপ, সিস্টেম, পোর্টাল বা প্ল্যাটফর্ম অবৈধভাবে ব্যবহার করা যাবে না। লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার বা বিতরণ, অন্য এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট কেনাবেচা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানা ব্যবহার করে রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা, সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ছাড়া লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বুকিং করে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বাড়ানো, প্রতারণার উদ্দেশ্যে মূল্যছাড়, প্রলোভন, ক্যাশব্যাক বা ইনসেনটিভের বিজ্ঞাপন প্রচার কিংবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অভিবাসী কর্মী বা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে উৎস দেশ ও গন্তব্য দেশ ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট কেনাবেচা, গ্রুপ বুকিং বা টিকিট কনফার্মেশনের পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রমে কোনো এয়ারলাইনস বা এর কর্মচারীর সম্পৃক্ততা থাকলে, কিংবা টিকিটে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, নিবন্ধন নম্বর ও মূল্য উল্লেখ না থাকলেও তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন সংযোজিত উপধারায় বলা হয়েছে, জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে শুনানি ছাড়াই সরকার সাময়িকভাবে কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে।

আইনে বলা হয়েছে, কেউ এই আইন বা এর অধীনে প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতারণা, দুর্নীতি বা সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিস্থিতিতে আকস্মিক দেশত্যাগ ঠেকাতে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাভেল এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে।

এতে বলা হয়েছে, সরকার সময়ে সময়ে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা মানতে বাধ্য থাকবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top