ছবি: ডিএসজে কোলাজ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। চলতি করবর্ষ থেকে ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আগামী করবর্ষ থেকে ভ্যাট রিটার্নও অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রথম দিনেই ঢাকাস্থ তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের তিনজন করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রিফান্ড জমে আছে, যার মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা ভ্যাট রিফান্ড।
দীর্ঘদিন ধরে রিফান্ড পেতে করদাতাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, “রিফান্ড হচ্ছে, করদাতার ন্যায়সঙ্গত পাওনা। সেটা না দেওয়া অন্যায়।” ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ভ্যাট দিয়ে মূলধন আটকে ফেলেন অথচ তার বিপরীতে কোনো সুদ পান না। নতুন অনলাইন সিস্টেমে করদাতারা ঝামেলা ছাড়াই রিফান্ড পাবেন এবং এতে তাদের আস্থা বাড়বে।
যারা এখনও কাগজে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছেন, তাদেরও অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে পুরনো কাগজভিত্তিক রিটার্নের তথ্য ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি করতে হবে। এরপর থেকে সবাই অনলাইনে রিটার্ন দিতে পারবেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, সব ধরনের সেবা কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে এবং এ ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এনবিআরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল বাস্তবায়নের ফলে করদাতাদের আবেদন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পন্ন করা সম্ভব হবে। এখন থেকে রিফান্ড আবেদন দাখিল ও তা প্রাপ্তির জন্য করদাতাদের ভ্যাট অফিসে যেতে হবে না। আবেদন প্রক্রিয়াকরণের পর প্রাপ্য অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।













