জাপানে শুল্ক লাগবে না ৭,৩৭৯ বাংলাদেশি পণ্যের

ছবি: প্রেস রিলিজ
ছবি: প্রেস রিলিজ

ছবি: ডিএসজে প্রদায়ক

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী মাসে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, যার ফলে উভয় দেশের পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এটিই হবে কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চুক্তি।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চুক্তির প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ জাপানের বাজারে ৭,৩৭৯টি পণ্যে এবং জাপান বাংলাদেশের বাজারে ১,০৩৯টি পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটি ইনটেনসিভ নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে আমরা জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছি। আজ জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ফোনালাপ হয়েছে। আগামী মাসে এটি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।”

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে ৪টি মোডে সার্ভিস বা সেবা খাত উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উভয় দেশের মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে। এই উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং জাপানের বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে ইপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সুসম্পর্ক থাকলেও বিনিয়োগ মাত্র ৫০০ মিলিয়ন ডলার। ইপিএ স্বাক্ষরিত হলে লজিস্টিকস, ইলেকট্রনিকস, আইটি ও অটোমোবাইল খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর ত্বরান্বিত হবে।”

জাপানি ব্যবসায়ীদের স্বাগত
দুই দেশের মধ্যে ইপিএ-এর খসড়া চূড়ান্ত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকাস্থ জাপানি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (জেসিআইএডি)-এর সভাপতি মানাবু সুগাওয়াড়া। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ইপিএ নিয়ে যে বিস্তৃত সমঝোতা হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। ২০২৪ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই নেগোসিয়েশন সাত দফা আলোচনার পর সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে চলায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

মানাবু সুগাওয়াড়া আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি কেবল শুল্কমুক্ত সুবিধাই দেবে না, বরং ব্যবসার সামগ্রিক পরিবেশের মানোন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। জেসিআইএডি জানিয়েছে, চুক্তির বিস্তারিত স্পষ্ট হওয়ার পর তারা এর সুবিধাগুলো প্রচারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বাণিজ্য সচিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া মোট আট দফা বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ হলো দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (এফটিএ) তৈরির পরিকল্পনা, যা বাণিজ্যের বাধা ও আমদানি শুল্ক কমিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top